বুধবার   ০৩ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭   ১১ শাওয়াল ১৪৪১

৪২০

অশ্লীলতা বন্ধে আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই

প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০১৯  

ইন্টারনেটের মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর ভয়াবহ প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে সহস্রাধিক অশ্লীল ছবি ও ভিডিওর সাইট ও ওয়েবপেজ। তবে এসব অশ্লীল সাইট বন্ধ করা হলেও এর পেছনে জড়িত অপরাধীরা জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে না।

ইন্টারনেটে অশ্লীল ছবির সাইট বন্ধ করা হলেও ইন্টারনেট থেকে অশ্লীলতা পুরোপুরি দূর হয়নি। বিনোদনমূলক কন্টেন্ট এর নামে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে কিছু অসাধু মানুষ। অশালীন নানা দৃশ্য জুড়ে দিয়ে মিউজিক ভিডিওর নামে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ইউটিউবে। নিজ শয়নকক্ষে কথিত মডেল স্বেচ্ছায় খুলে ফেলছেন শরীরের কাপড়, ফেসবুক লাইভে বলছেন অশ্লীল কথাবার্তা। এমন হাজারো অশ্লীল ভিডিও ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সমূহে। মাত্র কয়েক দিনেই এসব ভিডিওর দর্শক ছড়াচ্ছে লাখের অঙ্কে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অশ্লীল  ভিডিও নির্মাণ ও প্রচার আইনত নিষিদ্ধ। সে ক্ষেত্রে যারা ইন্টারনেটে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও আপলোড করছে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জড়িতদের আটক করে শুধুমাত্র মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিলে যেভাবে এ অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে তা রোধ করা কঠিন হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যে যতই বেনামে অপরাধ করে থাকুক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার মতো প্রযুক্তি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আছে। অশ্লীল ভিডিও তৈরী এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইউটিউবের পাশাপাশি ফেসবুকে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ভিডিও অপশন। সেখানে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে অশ্লীল নানা ভিডিও। দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ওই সব ভিডিও। অন্য দেশের ভিডিও ক্লিপ আপলোড করা হচ্ছে বেনামে। আবার অনেক ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে স্থানীয়ভাবে। নিজ বাসায় ও বন্ধুদের নিয়ে অশ্লীল ভঙ্গি ও কথোপকথনসহ ভিডিও করে তা আপলোড করা হচ্ছে। ওই সব ভিডিওর কুশীলবদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। এসব ন্যাক্কারজনক কাজে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে অশ্লীলতা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে যদি এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে তাহলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে দুই বছর থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, অর্থ দণ্ডেরও বিধান আছে।

আশার ব্যাপার হচ্ছে ইন্টারনেটে অশ্লীল ছবির সাইট বন্ধের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি ‘নিরাপদ ইন্টারনেট’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে সরকার। তাতে যুক্ত করা হয়েছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট, র‌্যাব, বিটিআরসি, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের। প্রথম পর্যায়ে বিপথে যাওয়া কিছু ‘সেলিব্রেটি’র তালিকা তৈরি করে তাদের কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। কাউন্সেলিংয়ের জন্য তালিকায় আছেন ইউটিউব চ্যানেলের বেশ কয়েকজন অ্যাডমিন ও মডেল। পাশাপাশি যারাই ইন্টারনেটকে কলুষিত করবে, তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে।  মনিটরিংয়ের আওতায় অনেকেই রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।

এই বিভাগের আরো খবর