শনিবার   ০৬ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

৪৫

করোনাকালে ধান কেটে ২০ হাজার শ্রমিকের আয় ৩২ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২০  

দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটতে রাজশাহী জেলা থেকে ২০ হাজার ৫০০ শ্রমিক গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকে কাজ শেষে ফিরে এসেছেন। আবার অনেকে এখনও ধান কাটছেন। তিনবেলা খাবার পাওয়ার পাশাপাশি বর্তমান চালের বাজার মূল্য অনুযায়ী এই লকডাউনের মধ্যে ওই শ্রমিকরা আয় করেছেন ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যা রাজশাহী জেলার অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে বাঘা-চারঘাট উপজেলার ধানকাটা শ্রমিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমার এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫০০ কৃষি শ্রমিক কাজ করতে গেছেন। প্রথমদিকে যাওয়া গ্রুপগুলো ফিরে আসা শুরু করেছেন। তিনবেলা খাবার পাবার পাশাপাশি ১৫ দিনের শ্রমের মূল্য হিসেবে তারা ১৫ মণ করে ধান পেয়েছেন। যা ১০ মণ চালের সমান,  যার বাজার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। শুধু এই ১৯ হাজার ৫০০ জনই স্থানীয় অর্থনীতিতে যোগ করছেন ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা।’ 

তিনি আরও জানান, ‘বেশির ভাগ কৃষককেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং প্রশাসনের সহায়তায়, অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া করে আমরা কাজে পাঠিয়েছি। দোয়া করবেন তাদের সকলের জন্য। ওনারা অনেকেই এখন এলাকায় ফিরে এসে আমের বাগানে কাজ করবেন আগামী জুলাই পর্যন্ত।’

রাজশাহী কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামসুল হক জানান, রাজশাহী জেলা থেকে মোট ২০ হাজার ৫০০ শ্রমিক নওগাঁ ও নাটোরের চলনবিলসহ অন্য জেলায় বোরো ধান কাটতে গিয়েছিল। এরমধ্যে বাঘা ও চারঘাট, পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার শ্রমিকরা অন্য জেলার ধান কেটে ভালোভাবে ঘরে তুলে দিয়েছে। আবার নিজেরাও আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে এলাকায় ফিরে এসেছেন। 

নওগাঁর আত্রাই থেকে ধান কেটে ফিরেছেন বাঘা উপজেলার পীরগাছা গ্রামের শ্রমিক আবদুর রহিম। তার দলে ১৫ জন শ্রমিক ছিলেন। তিনি বলেন, মেশিন দিয়ে অনেক ধান কাটা হয়েছিল। তারপরও তিনি পাঁচ মণ ধান নিয়ে ফিরে এসেছেন।

একই উপজেলার ১৬ জনের দল নিয়ে ধান কাটছেন মফিদুল ইসলাম। তিনি জানান, তার মালিকের ৫০ বিঘা জমিতে ধান হয়েছে। বৃষ্টিতে পড়া ধান কাটছেন। যেগুলো মেশিন দিয়ে কাটা যাবে না। তারা প্রতিজনে প্রায় ১৫ মণ ধান পেতে পারেন।

বাঘা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সফিউল্লাহ সুলতান বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি আজ নিম্নমুখী। বাংলাদেশের অর্থনীতির তিন স্তম্ভের মধ্যে ২ টি (পোশাক শিল্প, রেমিটেন্স) আজ স্তব্ধ। তিন স্তম্ভের মধ্যে একমাত্র কৃষি সচল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রায় সবাই একসাথে কৃষিতেই ভরসা রাখছেন। গত ৪ মে  প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বাঘা উপজেলা পরিষদে আসেন। প্রায় তিন ঘণ্টা তিনি উপজেলা পরিষদে অবস্থান করেন। এই সময় তিনি ধান কাটতে যাওয়া কৃষি শ্রমিকের বিষয়ে তিনি খোঁজ নেন। প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই হিসেব করা হয়, ১৯ হাজার ৫০০ কৃষক ধান কেটে প্রায় ৩১ কোটি টাকা নিয়ে ফিরে আসবেন।

তিনি আরও বলেন,  প্রায় দুই মাস শ্রমিকদের কোনও কাজ ছিল না। কিন্তু তাদের প্রত্যয়ণপত্র দিয়ে তাদেরকে অন্য জেলায় ধান কাটতে পাঠানো হয়েছিল। এই শ্রমিকরা অনেকে ফিরেছেন। তারা আর ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ করবেন না। এমনকি পুরো বছরে চালের যোগানটা তারা নিয়ে ফিরছেন। তাই এই লকডাউন আমাদের দুর্বল ও শক্ত দিকটাও শিখিয়ে দিচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর