শনিবার   ০৬ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

১৬১৫

ডা. রাজনের মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে নিতেই জড়ানো হচ্ছে খাদ্যমন্ত্রীকে?

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০১৯  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের (৪০) মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী ও তার পরিবার। নিজের জামাতার এমন অকাল মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল খাদ্যমন্ত্রীকে বিপাকে ফেলতে ডা. রাজনের মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে তৎপর রয়েছে।

বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশের বেশির ভাগ সংবাদ মাধ্যমগুলো ডা. রাজনের ব্যক্তিগত পরিচয় আড়াল করে খাদ্যমন্ত্রীকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নানা ধরণের সংবাদ পরিবেশন করে চলছে।

প্রসঙ্গত গত শনিবার রাত ৩ টার দিকে ডা. রাজন হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং প্রাথমিকভাবে রাজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে উল্লেখ করেন।

রাজনের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের দাবি জানালে রাজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে ডা: রাজন কর্মকারের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ।  ডা. রাজনের পোস্টমর্টেম শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। তিনি বলেন, ডা. রাজনের পোস্টমর্টেম আমাদের এখানে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের ফরেনসিক বিভাগ তার পোস্টমর্টেম করেছে। তার শরীরের বাইরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

সুরতহাল রিপোর্টে রাজনের মৃত্যুর জন্য অস্বাভাবিক কোনো কারণ খুঁজে না পেলেও থেমে নেই ষড়যন্ত্রকারীরা। প্রতিনিয়ত রাজনের মৃত্যুর সাথে খাদ্যমন্ত্রীকে জড়িয়ে বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার পেছনে গভীর কোনো অসৎ উদ্দেশ্য লুকিয়ে নেইতো?

উল্লেখ্য বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী খাদ্যমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরপরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারাদেশব্যাপী ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে অভিযান চালু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভেজাল খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিবেশনের দায়ে একাধিক ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক ভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এছাড়া খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে অভিযান শুরুর পরপরই বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। জানা যায় ভেজাল খাদ্য তৈরী এবং সারাদেশে তা সরবরাহ করার পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যাদের খাদ্য মাফিয়া বলে অভিহিত করা হয়েছে। অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই মূলত এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন করতো তারা।

খাদ্যে ভেজাল প্রদানকারী এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরপরই খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার তাদের চক্ষুশূল হয়ে উঠেন। কোনোভাবে খাদ্যমন্ত্রীকে শায়েস্তা করতে না পেরে তবে কি নিজের জামাতার মৃত্যুর মতো একটি স্পর্শকাতর ব্যাপারকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে?  

এই বিভাগের আরো খবর