সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৭২

`দুর্যোগ মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়নের ধারায় অব্যাহত রাখতে হবে`

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২০  

বাড়ছে করোনা সংক্রমন ও মৃত্যু বিপর্যস্ত অর্থনীতি।এই মহাদুর্যোগ মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়নের ধারায় অব্যাহত রাখার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

যে কোন সংকট কাটিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু কন্যার।

তার প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধের মনোবল ধরে রেখে সরকারের কাজে সহযোগিতা দেবে সব পেশা শ্রেনীর মানুষ।

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শেখ হাসিনা। এরইমধ্যে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সব সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। পোঁছে গেছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে।

রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন শেখ হাসিনা।সেই কর্ম পরিকল্পনায় ২০২০ সালকে ভিন্ন ভাবে সাজায় সরকার।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বছরব্যাপী পালনের মাধ্যমে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প দৃশ্যমান করার লক্ষ্য নেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু মার্চের শুরুতে বাংলাদেশে হানা দেয় মরনঘাতি করোনা ভাইরাস।মুজিব বর্ষের বড় বড় আয়োজনকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশবাসীর জন্য নিজেকে সঁপে দেন প্রধানমন্ত্রী।করোনা সতর্কতায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে মুজিব বর্ষ উদযাপনের ঘোষণা দেন।

তড়িৎ গতিতে একে একে নিতে থাকেন গুরুত্বপূর্ণ সব সিন্ধান্ত।করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন সরকার। সরকার বা রাষ্ট্রের কাজের পাশাপাশি কাজের পাশাপাশি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সব কর্মকাণ্ড দেখভাল করছেন প্রধানমন্ত্রী।

গনভবন থেকে সামলাচ্ছেন দাপ্তরিক কাজ করছেন সভা, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিচ্ছেন মাঠপর্যায়ের খোঁজ, দিচ্ছেন নানা নির্দেশনা।

সারাদেশ যখন করোনা ভাইরাসে আতংকিত তার মধ্যে দেশে আসে সুপার সাইক্লোন আমপান।বেড়ে যায় সরকারের চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিন্ধান্ত নিয়েছেন, তদারকি করেছেন প্রতিটি মুহূর্ত।উপকূল বাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া থেকে ধান কাটা সবকিছু নজরে ছিল প্রধানমন্ত্রীর।

এর মধ্যে ওয়ার্ল্ড ডি ইকোনমিক ফোরামের ভার্চুয়াল সম্মেলন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ভার্চুয়াল মহাসাগর সংলাপ, সার্ক নেতাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে করোনা মোকাবেলায় নিজের মত ও পরামর্শ দিয়েছেন।

করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা সামলাতে সব দেশ যখন পরিকল্পনা করছে তখন আগেভাগেই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।ছাড় দিচ্ছেন ১১.৯০ বিলিয়ন ডলারের ১৯ টি প্রণোদনার প্যাকেজ।যা দেশের মোট জিডিপির ৩.৭ শতাংশ।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের সংস্থাগুলোর জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

সংকট মোকাবেলায় দেশের ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

করোনার এই সময়ে দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে ২৫০০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেয় সরকার।যা পাঠানো হয় মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে।

পরিস্থিতি বুঝে করোনা মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জরুরী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয় ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স।যারা সরাসরি করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তাদের সম্মানী হিসেবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স , স্বাস্থ্য কর্মী,মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্রবাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন আরো ৫০ লাখ মানুষের জন্য রেশনকার্ড করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৬৪ জেলার ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করতে ৬৪ সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ৮৫ জন জনপ্রতিনিধিকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাস করোনার সংকট অবশ্যই কেটে যাবে। তার ডাকে দেশসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়বে সবাই।ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি।

এই বিভাগের আরো খবর