বুধবার   ০৩ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭   ১১ শাওয়াল ১৪৪১

৪২৭১

নওগাঁর শাহজাহান ভোটের মাঠে নামালেন চিহ্নিত মাদক কারবারিদের

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০১৯  

নওগাঁয় সাংবাদিক পেটানো, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তদের মদদ দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো, হোটেল ও মার্কেট দখলের অভিযোগ সাপাহার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাজাহান হোসেন মন্ডলের বিরুদ্ধে। এবার তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে এলাকার বখাটেও মাদকাসক্তদের মাঠে নামিয়েছেন বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী শামসুল আলম চৌধুরী ও তার সমর্থক দলীয় নেতা-কর্মীদের। তারা অভিযোগ করেছেন, শাজাহান হোসেন তার ক্যাডারদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাজাহান হোসেন প্রায় ১০ বছর আগে সাপাহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পান। এরপর থেকেই তিনি চাঁদাবাজি, হুমকি, ধামকি, দখল ও মারপিট শুরু করেন।

২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি শাজাহান আলী স্থানীয় গিয়াস মার্কেট দখলে নেয়। পরে সেখানকার হোটেল ও মিষ্টির দোকান ঘর ভেঙ্গে বখাটেদের আড্ডাস্থল বানিয়ে দেয়। ওই সংবাদ সংগ্রহে নওগাঁ থেকে চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিক ও নওগাঁ প্রেসক্লাবের সভাপতি কায়েস উদ্দীন এবং এটিএন বাংলার সাংবাদিক রায়হান আলম ঘটনাস্থলে যান।

ওই সময় শাজাহান আলীর নির্দেশে তাদের উপর সাত আটজন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক কায়েস উদ্দীন, রায়হান ও এটিএন বাংলার ক্যামেরাপার্সন সুমনকে পিটিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

এঘটনায় গিয়াস মন্ডলের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা আদালতে মামলা চলছে। সাংবাদিক রায়হান আলম জানান, শাহজাহান হোসেনের দখলের ছবি নিতে গেলে তার নির্দেশে সন্ত্রাসীরা হামলা করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পরে মামলা করা হয়। মামলা এখনো চলমান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ১৮ মার্চ সাপাহার উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চৌধুরী। পরে বিদ্রোহী প্রার্থী হন শাহজাহান হোসেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্তদের মাঠে নামিয়েছেন বলে অভিযোগ শাহজাহানের বিরুদ্ধে। মাদকাসক্ত ও ব্যবসায়ী মোখলেসুর রহমান, গোপাল কুমার মন্ডল, মজিবুর রহমান, আনু, নুরে আলম পিংকী , লতিফ, আবু জাফর, হৃদয় মন্ডল, আমিন, সুলতান, সম্রাট, নাইমুল হককে মাঠে নামিয়েছেন। এরা ফেন্সিডিল ও ইয়াবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

এদের মধ্যে মোখলেছুর, আমিন, আব্দুর রহিম পাটারী, সুলতান, পিংকী, আনু, কামরুল একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে প্রায়ই মানুষের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। এরা এখন শাজাহানের পক্ষে ভোটের মাঠে নেমেছে। এরা ভোটের মাঠে নেমে প্রতিপক্ষ শামসুল আলমের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে।

সাপাহার উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জানান, নেশাগ্রস্ত ও মাদকব্যবসায়ী সবাইকে মাঠে নামিয়েছে শাহজাহান হোসেন। এরা নেশা করে বাজারে উৎপাত করছে। তার বিরুদ্ধে কেউ নামলেই হাত-পা কেটে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। তার কর্মীদের শতকরা ৮০জন মাদকের সাথে জড়িত। সে নির্বাচিত হলে সাপাহারে মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাবে।

তিনি আরো জানান, ৪০বছর আগে তৈরি গিয়াস মার্কেট দখল করে নিয়েছে। ভুটভুটি ও অটোরিকসা থেকে চাঁদা উঠানো হয় তার নির্দেশে। এসব চাঁদাবাজরা এখন শাহজাহান হোসেন মন্ডলের মুল শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

এবিষয়ে সাপাহার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামসুল আলম চৌধুরী বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে শাহজাহান হোসেন সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে। তারা আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি ধামকি দিয়ে থামানোর চেষ্টা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে ফোন করা হলে শাহজাহান হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে মাদকের কোন লোক নাই। যারা এসব কথা বলছে তাদের লোকগুলোরই সমস্যা আছে। মাদক যারা খায় বা ব্যবসা করে তারা আমার সাথে নাই। হুমকি দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আমি থানায় এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।

তিনি বলেন, গিয়াস মার্কেট আমি দখল করিনি, আমার জায়গা দখল করেছিলো, আমি উদ্ধার করেছি। সাংবাদিকদের আমার অনুপস্থিতে ছেলেরা মারপিট করেছিলো। আমার কোন হাত ছিলো না।

সাপাহার থানার ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে মারপিটের একটি মামলা আদালতে চলছে। তার সঙ্গে কোন সন্ত্রাসী ভোটের মাঠে নেমেছেন কি না তা জানা নেই।

এই বিভাগের আরো খবর