সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৩৮

পায়রা বন্দরে টার্মিনাল-কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর

প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২০  

পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে প্রথম অত্যাধুনিক টার্মিনাল ও কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চীনের সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ চুক্তি হয়।

 

মঙ্গলবার বিকালে পায়রা বন্দরের সভা কক্ষে চীনের সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়রিং কোম্পানি লিমিটেডের বাংলাদেশের প্রতিনিধি মি. রিচার্ড চেং এবং পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়রিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মি. চেন জিচুং ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ঝাও বাওহুয়া সরাসরি সংযুক্ত ছিলেন।

পায়রা বন্দরের এই প্রথম টার্মিনাল এবং কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মিত হচ্ছে কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামের রাবনাবাদ চ্যানেলে। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাবনাবাদ চ্যানেল বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত।

পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় ‘পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়। ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

এই কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ হলে পায়রা বন্দর থেকে বছরে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা যাবে বলে জানিয়েছেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রথম টার্মিনাল নির্মাণে প্রকল্পের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের প্লানিং, ডিজাইন, ড্রইং, প্রাক্কলন ও প্রকল্প চলাকালীন কাজের সুপারভিশনের জন্য কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কুনহুয়া ডাইয়ং হেরিমকে নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকল্পের সকল কম্পোনেন্টের প্লানিং, ডিজাইন, ড্রইং, প্রাক্কলন ও দরপত্র দলিল প্রস্তুত করা হয়েছে।

কন্টেইনার ইয়ার্ডের কাজের আওতায় ৩ লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ওয়ার্কশপ, ফায়ার স্টেশন, কন্টেইনার ফ্রেইড স্টেশন, গেট হাউস, ফুয়েল স্টেশন, ভূগর্ভস্থ পানির আধার, পাম্প হাউস নির্মিত হবে।

চলতি বছরের ১৮ জুন কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের কাজটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি (সিসিজিপি) কর্তৃক অনুমোদিত হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করবে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল, বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমডোর এম জাকিরুল ইসলাম এবং সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রিচার্ড চেন, প্রথম টার্মিনাল ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমডোর এম জাকিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা বন্দরের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে পায়রা বন্দরে কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলতে শুরু করে। এখনো পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে বন্দরের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নিশ্চিত করা গেলে পায়রা বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু করা যাবে।

এই বিভাগের আরো খবর