শনিবার   ০৬ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

১২০৯৪

বরগুনার আলোচিত খুনী রিফাত পৌরসভার ছাত্রদলের আহ্বায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০১৯  

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যাকারীদের মধ্যে অন্যতম একজন রিফাত ফরাজী (২৫)। তিনি বিএনপির আমলে বরগুনা পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের মো. দুলাল ফরাজীর বড় ছেলে তিনি।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে যুক্ত এই ছাত্রদল নেতা রিফাত ফরাজী। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে একটি আতঙ্কের নাম রিফাত ফরাজী। রিফাতের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, মারধর রিফাতের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক যখম করেন রিফাত ফরাজী।

একই বছর বরগুনা পৌরসভার ছাত্রদলের এই নেতা (রিফাত ফরাজি) বরগুনার হোমিও চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে বাসায় থাকা সব ছাত্রদের জিম্মি করে, তাদের ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যান।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মারজানা মনি বলেন, ‘২০১৭ সালের রমজানে আমার একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মো. মেহেদী হাসান বরগুনার হোমিও চিকিৎসক আলাউদ্দিন ডাক্তারের বাসা সংলগ্ন মসজিদে তারাবির নামাজ পড়াতো। তখন রিফাত ফরাজী একদিন মেহেদীর কাছ থেকে স্যামস্যাং গ্যালাক্সি কোর প্রাইম মডেলের বিদেশ থেকে আনা ফোনটি ছিনিয়ে নেন।

ছাত্রদল নেতা প্রকাশ্যে হত্যাকারী রিফাত ফরাজী সম্পর্কে বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফয়জুল মালেক বলেন, রিফাত ফরাজী পৌরসভার ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন। তার নানা ধরনের অপকর্মের ভার তো আর ছাত্রদল নিবে না। একজন পৌরসভার নেতার দায়ভার গোটা ছাত্রদল কেন বহন করবে? আমরা তার ব্যাপারে কেন্দ্রিয় নেতাদের জানিয়েছি ইতিমধ্যে। অতিদ্রুত কেন্দ্র তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর