শনিবার   ০৬ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

৯০

মির্জা ফখরুলকে এক হাত নিয়েছেন খালেদা

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২০  

দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি এবং ভরাডুবির আশঙ্কায় এক নির্বাচন বর্জনের দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই সময়ের মধ্যে সরকার পতনের এমন কোনও চেষ্টাই নেই যা দলটি বাদ রেখেছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে সহিংসতা, জান-মালের ক্ষতি কোনও চেষ্টাতেই সফল হতে পারেনি বিএনপি। তাই অনেকটা ‘হতাশ’ এই দলটি আর আন্দোলনের পথে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুর্নীতির দায়ে দুই বছর এক মাস ১৬ দিন কারাভোগের পর এখন বাসায় চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মনে করেন, শেষ বয়সে এসে আর নতুন করে আন্দোলনের মাঠে নামার সামর্থ্য নেই তার। অন্যদিকে দলের দ্বিতীয় কাণ্ডারি তারেক রহমানও রয়েছেন লন্ডনে পলাতক। এর বাইরে দলের ভেতর রয়েছে নানা কোন্দল। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনের কোনও পথই আর খোলা নেই বিএনপির সামনে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ করে জনগণের কিছুটা কাছে যেতে চেয়েছিল দলটি। তবে সেখানে নানা অভিযোগ, দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, মিটিং-মিছিল না থাকলেও আপাতত ত্রাণকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করা যাবে। তবে সেই চেষ্টাতেও ব্যর্থ বিএনপি।

দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনও পরিকল্পনাই আর কাজে আসছে না বিএনপির। কারাগার থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়া সরকারে যাওয়ার নতুন প্ল্যাটফর্ম খুঁজলেও তাতে সাড়া মেলেনি। বিদেশি কূটনীতিকদের কাছেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে দলটি। বর্তমানে বেগম জিয়া তার ছেলের নির্দেশে বাসায় বসে স্থায়ী কমিটি ও সিনিয়র নেতারা খোঁজ-খবর রাখছেন। তাছাড়া খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য শর্ত নিয়ে মুক্তি পেলেও এখনো শুরু হয়নি মূল চিকিৎসা। এ নিয়েও ব্যস্ত থাকতে হবে তাকে।

মুক্তির ৪৮ দিন পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাসায় ডেকে এক হাত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সোমবার (১১ মে) রাত ৯টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসায় সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক হয়। জানা গেছে, বন্দি থাকা অবস্থায় আন্দোলন করতে না পারায় ফখরুলকে যা ইচ্ছে, তা বলেছেন তিনি। গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথম এই সাক্ষাৎ পান মির্জা ফখরুল। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ওনার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্য, দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। উনি আপাতত কোন আন্দোলন না করার পক্ষে।’

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ম্যাডাম আসলে কিছুটা হতাশ। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলীয় কিছু নির্দেশনা থাকলেও তা তৃণমূলে পৌঁছানো যায়নি। ফলে আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, করোনায় পাশে থাকার বিষয়টা আমরা প্রথমেই শুরু করলাম। কিন্তু নানা অনিয়মে এই কার্যক্রম নিয়ে এগোনো যায়নি। আপাতত দলের বড় কোনও পরিকল্পনা নেই। ম্যাডাম চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তিনি অসুস্থ।

এই বিভাগের আরো খবর