শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২০ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

১৩৪

শীতকালে চুলের যত্নে কি করবেন

স্বাস্থ খবর

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

শীত এখনো আসেনি, আবার গরমও এখন আর নেই। তাই অনেকেই খুশি যে যাক বাবা সান ড্যামাজ থেকে তো বাঁচা গেলো। কিন্তু সামনেই যে আবার অপেক্ষা করছে শীতের রুক্ষ হাওয়া। শীতে চুল হয়ে পড়ে সবচেয়ে বেশি রুক্ষ, নিষ্প্রাণ আর শাইনলেস হয়ে পড়ে। এর সাথে খুশকির সমস্যা তো আছেই। তবে এই সব সমস্যাই কাটানো সম্ভব, এবং শীতের হাওয়া যাতে চুলের কোনও ক্ষতি না করতে পারে, সেজন্যে কিছু রেগুলার হেয়ার কেয়ার রেজিম মেনে চলতে হবে। চলুন তাহলে জেনে সেই বেসিক রুলস গুলো-


১. ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেলের সাথে এভোক্যাডো আর কলা মিশিয়ে নিন। সবচেয়ে ভালো হয় এগুলো ব্লেন্ডারে মিশিয়ে নিলে। এরপর চুলে দিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। ১ ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হার্বাল শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো। এভোক্যাডো তে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ এবং ডি যা আপনার চুলের জন্য উপকারী। তাছাড়া চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতেও এটি অনেক সাহায্য করে। এভোক্যাডো আগোরা, নন্দন, মিনা বাজারে পেয়ে যাবেন।

২. শীতকালে চুল হালকা গরম পানি দিয়ে ধোয়া উচিত। তবে কখনই খুব গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া যাবে না। এতে চুল পড়ে অনেক। শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।


৩. চুলের ডগা ফেটে গেলে চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুল বাড়তে সমস্যা হয়। ফলে চুলের ওই অংশ কেটে বাদ দিলে চুলের বৃদ্ধিতে কোনো বাধা থাকবে না। এছাড়া চুলের নিচের অংশ অল্প করে কেটে নিলে চুলের ডগা ভালো থাকবে।


৪. শীতে বেশীর ভাগ মানুষের চুল রুক্ষ আর শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই রুক্ষ এবং নিষ্প্রাণ চুলের জন্য আধা কাপ পালং শাক, ১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল নিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো মতো ব্লেন্ড করুন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলে সিল্কি ভাব আসবে ও চুল হবে মসৃণ ও প্রাণবন্ত।

৫. রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভালো করে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে শোওয়া দরকার। এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ভালো হয়। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়লে চুল পড়া কমবে এবং চুলের গোড়া মজবুত হবে।


৬. ভেজা চুলে কখনও বের হবেন না। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বাতাসে ভেজা চুলে বের হলে কিউটিকেলের অনেক ক্ষতি হয়, ফলে চুল ঝরে পড়ে।

৭. গোসলের আগে কিছুক্ষণ চুলে এ্যলোভেরা জেল ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে চুলের রুক্ষতা অনেক কমে যাবে।

৮. শীতকালে চুল খোলা রাখার চেয়ে বেঁধে রাখা ভালো। কারণ বিভিন্ন গরম কাপড় বিশেষ করে উলের তৈরি কাপড়ের সাথে চুলের ঘষা লেগে চুলের ময়েশ্চার কমে যায়। ফলে চুল পড়তে থাকে। যারা উলের টুপি পড়েন তাদের চুল আরো বেশি ঝরে পড়ে। তাই এমন টুপি ব্যবহার করুন যেগুলোর ভেতরের অংশে নরম কাপড় থাকবে। আপনি নিজেই টুপির ভেতরের অংশে একটা পাতলা কাপড় সেলাই করে নিতে পারেন।

৬. খুশকির সমস্যা দূর করতে এক মুঠো জবা পাতা আর সমপরিমাণ মেহেদি পাতা পেস্ট করে নিয়ে তাতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে চুলে দিতে পারেন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৭. সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি শ্যাম্পু করা ঠিক নয়। ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহারে চুল শুষ্ক হয়ে পড়ে। এছাড়া কেমিক্যাল ছাড়া মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করাটাই চুলের জন্য ভালো।

৮. চুলে সূর্যের আলো লাগান। কেননা সূর্য থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন ডি চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এটি মাথায় রক্ত চলাচলেও উন্নতি ঘটায়। এছাড়া চুলের এই যত্নগুলোর পাশাপাশি খান সুষম খাদ্য ও পচুর পরিমাণে পানি।

বিঃদ্রঃ এটি কোন চিকিৎসা নয়। স্বাস্থ পরামর্শ মাত্র 

এই বিভাগের আরো খবর