সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

২৭৯

সেনা নিবাসে `অবাঞ্চিত` হাসান সারওয়ার্দী কেন রূপ পাল্টালেন!

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২০  

সম্প্রতি অনলাইন এক টকশোতে সেনাবাহিনীকে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে আলোচনায় এসেছেন সেনা বাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। কয়েক বছর আগেও আওয়ামী লীগের জন্য 'অন্তপ্রাণ' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টারত এই সেনা কর্মকর্তা হঠাৎ করেই টকশোতে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। সেই সঙ্গে তথ্য গোপন করে সেনা বাহিনীর কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করারও চেষ্টা করেন তিনি। অথচ নারী কেলেঙ্কারিসহ সেনা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য গত বছর মার্চ মাসে দেশের সকল সেনানিবাসে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা করা হয় তাকে। টকশো তে সিএমএইচ-এ চিকিৎসা না পাওয়ার কথা বললেও 'অবাঞ্চিত' ঘোষণার বিষয়টি উল্লেখ করেননি চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।

কিন্তু হঠাৎ কেনো রূপ পরিবর্তন করলেন এককালে এই সেনা কর্মকর্তা চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। জানা গেছে, তার পেছনেও রয়েছে নারী। সর্বশেষ তিনি নিজ স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিয়ে করেছেন মিডিয়ায় জনপ্রিয় এক উপস্থাপিকাকে। উপস্থাপিকা হিসেবে জনপ্রিয় এই নারী জোট সরকারের আমলে হাওয়া ভবনের হেড অব কোলাবরেশন হিসেবে মিডিয়ায় সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার প্রভাবেই হাসান সরওয়ার্দী বর্তমানে সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেনা নিবাসে দারুণ সমালোচিত হাসান সারওয়ার্দী জুটি। জানা গেছে বিয়ের আগে থেকে সম্পর্ক ছিলো এই দুই জনের। সারওয়ার্দী তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পূর্বেই এই উপস্থাপিকার সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের বিয়ে প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে মিরপুরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) দুই-সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্স করার সময় সারওয়ার্দীর সঙ্গে পরিচয়। এরপর কাজ করতে গিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়।’


অর্থাৎ প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহিত অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।

আইএসপিআর থেকে প্রেরিত ১৯ জুলাইয়ের প্রতিবাদলিপিতে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী প্রসঙ্গে বলা হয়, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর এনডিসির কমান্ড্যান্ট থাকা অবস্থায় একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি এনডিসিতে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্সের সাথে বিদেশে ভ্রমণকালেও অনেক মেয়েকে নিয়ে চলাফেরা করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তার এই অশোভনীয় আচরণ এবং মেলামেশার ছবি কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হলে কর্তৃপক্ষ বিব্রত হয় এবং তাকে বিভিন্নভাবে উপদেশ দেয়া হয়। তিনি এলপিআর এ থাকাকালীন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ১৬ আগস্ট ২০১৮ তারিখে প্রথম স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন এবং সেনা আইন বর্হিভূতভাবে মেসকিট (সামরিক পোষাক) পরে ২১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিবাহ করেন। কিন্তু তিনি বিবাহের পূর্বে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ০৩ নভেম্বর ২০১৮ থেকে একই বাসায় অনৈতিকভাবে অবস্থান করেন। এমনকি তিনি বিবাহের পূর্বে তাকে সাথে নিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন, সাজেক রিসোর্ট, খাগড়াছড়ি’তে অবকাশ যাপন, বিভিন্ন সময় ভারত, থাইল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণ ও অবস্থান করেন, যার সচিত্র আলামত সামরিক ও অসামরিক পরিমন্ডলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এছাড়াও তিনি যাকে বিয়ে করেন সে একজন বিতর্কিত নারী হিসেবে পরিচিত।

সেখানে আরো বলা হয়, লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (অবসরপ্রাপ্ত) এর এ ধরনের আচরণ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর। এ ধরনের ঘটনা সেনাবাহিনীতে কর্মরত অফিসার এবং অন্যান্য পদবীর মধ্যে নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করে ও বিরূপ প্রভাব ফেলে। সামগ্রিক বিবেচনায়, গত ১০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখ উক্ত অফিসারকে সেনানিবাস ও সেনানিবাস আওতাভুক্ত এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।
চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সকলের কাছে 'হিরো' খেতাব লাভ করেন রানা প্লাজা ধ্বসের পর উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য। এ সময় রানা প্লাজা থেকে উদ্ধার হওয়া রেশমাকে পরবর্তীতে তিনি অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেনা নিবাসের বিশেষ একটি সূত্র জানায়, তার সঙ্গে সেনা বাহিনীর কোন নারী সদস্য একা দেখা করতে চাইতেন না, এমনকি লিফটেও একা উঠতে চাইতেন না। এক সময় সেনা প্রধান হওয়ার ইচ্ছে থাকা এই সেনা কর্মকর্তা মূলত নারী কেলেঙ্কারির কারণেই তার সকল অর্জন ম্লান হয়েছে বলে জানা যায়।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী মেজর থাকাকালেই নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ান। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নির্লজ্জভাবে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন।

ওই নারীর আগে-পরে আরও অনেক রমণীর উষ্ণ সান্নিধ্যে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন সারওয়ার্দী। নষ্ট প্রেমের হাতছানিতে জলাঞ্জলি দিয়েছেন নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার! এ নেশাটাই তাঁর দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছে। খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে নিজেকে।

একাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর নিজের আরও নৈতিক স্খলনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।

এ ছাড়াও অনেক নারীর সঙ্গে তাঁর রুচিহীন কথোপকথন আলোচনা-সমালোচনার মূল উপজীব্য হয়ে উঠে। তার বিয়ের আগেই এক সঙ্গে বসবাস এবং দ্বিতীয় বিয়ের পরও চালিয়ে যাওয়া অনৈতিক কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেনা সদর দপ্তর। ২০১৯ সালের মার্চের শেষের দিকে তাকে সকল সেনানিবাসে প্রবেশে ‘অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।

অথচ নিজের 'অবাঞ্চিত' হওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে কোন কথা না বলেই তিনি একটি নাম সর্বস্ব অনলাইন প্লাটফর্মের টকশো’তে প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ সেনাবাহিনীর মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর বিরুদ্ধে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচার-প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে অবসর গ্রহণের পর নিজের অপকর্মের কারণে সকল অবস্থান হারিয়ে এবার সুযোগ-সুবিধার সন্ধানে দ্বিতীয় স্ত্রীর হাওয়া ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন এই অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রদ্রোহ এক মামলার দেশ থেকে পলাতক এক আসামির উপস্থাপনায় কথিত অনলাইন টকশো’তে তিনি সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে থ্যা প্রচার প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন অনেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

স্পর্শকাতর নানা বিষয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও লঙ্ঘনের অভিযোগও করছেন অনেকে।

এই সাবেক সেনা কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, '‘নিজে ৪০ বছর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবী বহন করে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার পরেও কথিত অনলাইন টকশোতে নিজের অর্বাচীন বক্তব্যের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। ঢালাওভাবে সেনাবাহিনীকে নিয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান প্রতিটি সদস্যের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। এ কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এখন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।'

এই বিভাগের আরো খবর