শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২০ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

১১৫

হাওয়া ভবন নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান, ফেঁসে যাচ্ছেন ঘনিষ্ঠরা

প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯  

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্তে এবারে ফেঁসে যাচ্ছেন হাওয়া ভবনে যাতায়াতকারী ঘনিষ্ঠরা। হাওয়া ভবনের যারা নিয়মিত যাতায়াত করতেন তাদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের উৎস জানতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।  

দুদকের অনুসন্ধান টের পেয়ে নিজেদের রক্ষা করতে ইতোমধ্যে নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই।

এরই ধারাবাহিকতায় এক সময়ের হাওয়া ভবন ঘনিষ্ঠ ও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাকারী পুলিশ কর্মকর্তা (পরিদর্শক) ফখর উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে দুদক। জানা যায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে ও স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। 

এইসব জ্ঞাত আয় বহির্ভূত এসব সম্পদের উৎস জানতে মাঠে নেমেছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান টের পেয়ে নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেও নিজেকে রক্ষা করতে পারছেন না এই পুলিশের কর্মকর্তা। বিভিন্ন সূত্রমতে জানা গেছে, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মেয়াদে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন থানায় দাপটের সঙ্গে কর্মরত ছিলেন বর্তমানে নরসিংদী জেলায় পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ফখর উদ্দিন ভূঁইয়া। সেসময় কর্মজীবনে ধরপাকড় বাণিজ্য চালিয়ে কোটি টাকা আয় করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা, এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদক তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল হক সাংবাদিকদের জানান, ''আমাদের অনেক কিছুর বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি বিয়ের অনুষ্ঠানে। অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেন কর্মকর্তা। আর অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক ফখর উদ্দিন ভূঁইয়া নিজেকে নিরীহ দাবি করে বলেন, আমি সাত বছর ধরে ওসিগিরি করছি। আমার ৫০ লাখ টাকা লোন আছে আর স্ত্রীর নামে সৌহার্দ্য টাওয়ারে ১টি ফ্ল্যাট কিনেছি। আমার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় স্বজনরা সুইডেনে থাকে, তারা কিছু কিনেছে। তিনি বলেন, শ্বশুরবাড়ির ১৫০ জনের মতো সুইডেনে থাকেন! নগরীর কয়েক জায়গায় নির্মাণাধীন ভবনে শেয়ার থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এক আত্বিয় ঠিক আত্মীয়ও বলা ঠিক হবে না তার নেয়া অংশগুলো আমাকে দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। নিজের অভিযোগ বিষয়ে বলেন, দুদক আমাকে ডেকেছিল কাগজপত্র জমা দিয়েছি। অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। দুদক সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত হচ্ছে তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ করেও কোন লাভ হবে না। দুদকের উর্ধতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি মনিটরিংয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে। (সুত্রঃ জনকণ্ঠ) 

এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক সাবেক ‘হাওয়া ভবনের’ কর্মচারী শামসুজ্জোহা ফরহাদ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সেসময়।

২০১৮ অক্টোবর হাওয়া ভবনে নিয়ে কালের কন্ঠে ‘হাওয়া ভবন ঘিরে শ্বাসরুদ্ধকর ভয়' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের বলা হয় বিল্ডিয়ের গেটে গেলে একজন নিরাপত্তাকর্মী এগিয়ে আসেন তার কাছে জানতে চান, একসময় এখানেই হাওয়া ভবন ছিল কি না? বয়স্ক মানুষটি কিছুটা ভয় পেয়ে বলেন, ‘আগে ছিল, এখন আর নেই। এ বিষয়ে আমাকে আর কোনো প্রশ্ন করবেন না।’ কথাটি বলেই, তিনি চোখ দিয়ে পাশের একজনকে দেখান। নাম তাঁর মোহাম্মদ সায়মন, ভবনের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও ‘হাওয়া ভবন’ নামটি শুনে চমকে ওঠেন। মোহাম্মদ সায়মন বলেন, ‘এখানে হাওয়া ভবন-টবন নেই। অনেক আগে যে পুরাতন ভবনটি ছিল তার নাম ছিল হাওয়া ভবন। ভাই, এই নামটি নিয়ে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।’ ভবনটি ঘুরে দেখতে চাইলে তিনি এক বাক্যে না করে দিয়ে বলেন, ‘ভাই, এমনিতেই ভয়ে আছি। তার উপর আপনে ঝামেলা কইরেন না।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘পাশের ভবনের ম্যানেজার মেহেদি বলেন, ‘আমি এখানে দেড় বছর ধরে আছি। শুনেছি একসময় এখানে হাওয়া ভবন ছিল। তখন বিএনপি নেতা তারেক জিয়ার ভবন ছিল এটি। এখানে অনেক দুর্নীতির সিদ্ধান্ত হতো। টেলিভিশনের খবরে শুনেছি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বৈঠকও তখন হাওয়া ভবনে হয়েছিল।

এক সময়ের এই হাওয়া ভবন আজ অব্দি সাধারণ মানুষের কাছে এক আতংকের নাম এবং দেশের জন্য এটি একটি কলঙ্কের নাম।

এই বিভাগের আরো খবর